সরাইলে রায়হান সারোয়ারের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কলেজশিক্ষার্থী রায়হান সারোয়ারের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী, পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। এ সময় রায়হানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং রায়হানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সরাইল সরকারি কলেজের পরীক্ষা শেষে কলেজ মোড় থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে সরাইল সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী, রায়হান সারোয়ারের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, রায়হান সরাইল সরকারি কলেজের সম্মান (অনার্স) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার তেরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, রায়হান একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
মানববন্ধন শেষে কলেজ মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ওছালিয়া পাড়া মোড় অতিক্রম করে সরাইল থানার সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। পরে মিছিলটি সরাইল উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে ঘুরে শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই, অন্যায়ের প্রতিবাদ চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা প্রশাসনের কাছে মামলার পেছনের প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রায়হান সারোয়ার একজন শিক্ষার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না করে যেন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়। তাঁরা অবিলম্বে রায়হানের মুক্তি ও মামলার সঠিক তদন্তের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, একজনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনি অধিকার এবং আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনই এখন তাঁদের প্রত্যাশা।
প্রতিবেদন: আব্দুর রাজ্জাক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।























