কাসিমপুর পাম্প হাউসের গাফিলতিতে কাউয়াদিঘি হাওরে জলাবদ্ধতা, বিক্ষোভ কৃষকদের
মৌলভীবাজারের মনু সেচ প্রকল্পের কাসিমপুর পাম্প হাউসের গাফিলতির কারণে কাউয়াদিঘি হাওরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। জলাবদ্ধতায় কয়েক হাজার হেক্টর আমন ধানের জমি ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।
ফসল হারানোর আশঙ্কায় কৃষকরা যখন দিশেহারা, তখন জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। কৃষকদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা না হলে সময়মতো আমনের চারা রোপণ করা সম্ভব হবে না। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা।
কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসন, আমন ধান রক্ষা এবং স্থায়ী সমাধানের দাবিতে গত ৬ আগস্ট দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন তারা। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ূন রশীদ সুয়েবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সরওয়ার আহমদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আ স ম ছালেহ সোহেল, কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব এম খছরু চৌধুরী, মহিলা নেত্রী সাদিয়া নোশিন চৌধুরী, অধ্যাপক মো. সেলিম, সাংবাদিক সালেহ এলাহি কুটি, কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুলেমান মিয়া, ছালিকুর রহমান টুকু, সামছুদ্দিন মাস্টার, মো. খায়রুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, মো. ফজলুর রহমান, সিপিবি নেতা জহুর লাল দত্ত, কয়েছ মিয়া, একাটুনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ রুমেল আহমদ, কামাল হাসান, দুলাল তরফদার, ছাত্রনেতা জ্যোতিষ মোহান্ত, মোহাম্মদ মুজিব মনসুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবির খান, ডা. রওশন আহমদ, জয়েল আহমেদ, রাজন মিয়া ও শামীম আহমেদসহ অনেকে।
সমাবেশে কৃষকরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, মনু সেচ প্রকল্পের পাম্পের মাধ্যমে নিয়মিত পানি নিষ্কাশনের কথা থাকলেও প্রকল্পের আটটি পাম্প বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে তারা আমনের চারা জমিতে রোপণ করতে পারছেন না। নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকরা সার্বক্ষণিকভাবে পাম্প চালু রেখে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন কৃষকরা।
এদিকে মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ার্ল্ডওয়াইডের ফাউন্ডার্স প্রেসিডেন্ট এবং গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর ও কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর এক বিবৃতিতে কাউয়াদিঘি হাওরের জলাবদ্ধতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, কাসিমপুর পাম্প হাউসের গাফিলতির কারণে হাওরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফসল হারানোর আশঙ্কায় কৃষকরা যখন দিশেহারা, তখন জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের নীরবতা উদ্বেগজনক। তিনি এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সার্বক্ষণিক পাম্প চালু করে পানি নিষ্কাশনের দাবি জানান।
মোহাম্মদ মকিস মনসুর আরও বলেন, কাসিমপুর পাম্প হাউস কৃষকদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওর রক্ষার স্বার্থে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি মনু নদী ও মাগুরা নদী দ্রুত খননেরও দাবি জানান তিনি।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে হাওরের পানি নিষ্কাশন করে কৃষকরা স্বাভাবিকভাবে কৃষিকাজ শুরু করতে পারেন।























