মঙ্গলবার , ০৪ আগস্ট ২০২৬
Tuesday , 04 August 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:১৪, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নাগরিক প্রত্যাশা ও দায়িত্ববোধকে কেন্দ্র করে তপু রায়হানের মতবিনিময় সভা

নাগরিক প্রত্যাশা ও দায়িত্ববোধকে কেন্দ্র করে তপু রায়হানের মতবিনিময় সভা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত আসন ঢাকা-১৭- সংসদ সদস্য প্রার্থী তপু রায়হান সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় সভা করেছেন। রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন পরিকল্পনা, নির্বাচনী অবস্থান এবং ঢাকা-১৭ আসনের নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।

সভায় তপু রায়হান বলেন, ঢাকা-১৭ কেবল একটি ভোটকেন্দ্র নয়- এটি শহীদ জহির রায়হান, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ আধুনিক নগরজীবনের ইতিহাস বহন করে। এই এলাকার মানুষের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আমি রাজনীতিতে এসেছি ক্ষমতা বা সুবিধার জন্য নয়, বরং দায়িত্ববোধ থেকে।

তিনি আরও বলেন, তার পিতা শহীদ জহির রায়হানের মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্নই তার রাজনৈতিক পথচলার মূল অনুপ্রেরণা। এই উত্তরাধিকার শুধু স্মৃতির নয়, বরং দায়বদ্ধতারও।

ঢাকা-১৭: সমস্যা সম্ভাবনা

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তপু রায়হান ঢাকার বনানী, গুলশান ক্যান্টনমেন্ট-সংলগ্ন এই আসনের সমস্যাগুলো তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যানজট জলাবদ্ধতা শুধু দৈনন্দিন ভোগান্তির কারণ নয়, এটি বছরে বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট করে এবং অর্থনীতিতে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনিয়ন্ত্রিত আবাসন, নাগরিক নিরাপত্তার ঝুঁকি, সরকারি শিক্ষা স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং তরুণদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের অভাব ঢাকা-১৭ আসনের বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচিত হলে তিনি এলাকাভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়ন মাস্টারপ্ল্যান, স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করেন।

তিনি নাগরিক সেবাকে ডিজিটাল, স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক করতে সংসদীয় নজরদারি জোরদারের প্রতিশ্রুতিও দেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অবস্থান

দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তপু রায়হান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আমার দুর্বলতা নয়- এটাই আমার শক্তি। আমি কোনো দলীয় নির্দেশের নয়, মানুষের বিবেকের নির্দেশে কথা বলতে চাই।

তিনি মনে করেন, সংসদে ঢাকা-১৭ আসনের সমস্যা তুলে ধরতে স্বাধীন কণ্ঠই সবচেয়ে কার্যকর। সাধারণ মানুষের আস্থা অংশগ্রহণই তার রাজনীতির মূল ভিত্তি।

শান্তিপূর্ণ ন্যায়সংগত নির্বাচনের আহ্বান

সভায় তপু রায়হান নির্বাচনী সহিংসতা, কালো টাকা পেশিশক্তি পরিহার করে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ন্যায়সংগত নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেনভোট যেন হয় আস্থার উৎসব- আতঙ্কের নয়।

সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা ঢাকা-১৭-এর রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভোটারদের মনস্তত্ত্ব, প্রচারণা কৌশল এবং ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নে তার ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে তপু রায়হান স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকরা মন্তব্য করেন, ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, নাগরিক সমস্যা সম্পর্কে বাস্তব উপলব্ধি এবং স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান- এই তিনটি সমন্বয় তপু রায়হানকে ঢাকা-১৭-এর একটি ব্যতিক্রমী আলোচিত প্রার্থী হিসেবে তুলে এনেছে। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই আসনের ভোটের ফলাফল ভবিষ্যৎ নাগরিক রাজনীতির দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে।

 

আলোচিত খবর