সোমবার , ০৩ আগস্ট ২০২৬
Monday , 03 August 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

বন্ধের হাত থেকে আপাতত রক্ষা পেলো তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান

বন্ধের হাত থেকে আপাতত রক্ষা পেলো তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান

দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে বড় ধরনের অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেও আপাতত বন্ধের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ দিয়ে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)-কে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কেন বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে না— সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় ৯টি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এই ৯টি প্রতিষ্ঠান হলো— ফাঁস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে শুনানি শেষে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসির উপস্থাপিত কর্মপরিকল্পনাকে আংশিকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য বিবেচনা করে এগুলোকে আপাতত অবসায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শুনানিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার বিভিন্ন যুক্তি ও পরিকল্পনা তুলে ধরে। এর ভিত্তিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আর্থিক সূচকে উন্নতি দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণেই এনবিএফআই খাতে সংকট চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পিকে হালদার সংশ্লিষ্ট কেলেঙ্কারিতে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাঁস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি রুগ্ন এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই আমানতকারীরা তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন। তবে কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র আরও জানায়, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডাররা কোনও অর্থ পাবেন কী না, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর